ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার পাসকাল গ্রোটেনহুইস–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না: কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নিবন্ধন স্থগিত
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন—
“আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।”
তাঁর দাবি, অতীতের তিনটি ‘কারচুপি নির্বাচনে’ ভোট দিতে না পারা তরুণ ভোটাররা এবার প্রথমবারের মতো মুক্ত পরিবেশে ভোট দেবে।
প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগে তরুণদের ঐতিহাসিক মুহূর্ত
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবি তুলেছিল—
এখন তারাই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাবে।
তিনি একে “ঐতিহাসিক রূপান্তর” হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেদারল্যান্ডস: স্বল্প সময়ে নির্বাচন প্রস্তুতি প্রশংসনীয়
ডাচ ভাইস মিনিস্টার বলেন—
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে প্রস্তুতির জন্য সময় খুব কম ছিল, তারপরও তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারেরও প্রশংসা করেন, যা ইউরোপীয় দেশগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে জানান।
ডাচ বিনিয়োগ বাড়তে পারে: আসছে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি
পাসকাল গ্রোটেনহুইস জানান—
নেদারল্যান্ডস বিডাকে (BIDA) সঙ্গে নিয়ে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপে একটি নতুন চুক্তি করতে চায়। খুব শিগগিরই সমঝোতা স্মারক (MoU) হতে পারে।
তিনি আরও বলেন—
নেদারল্যান্ডসের যেসব কোম্পানি এতদিন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছে, এখন তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
৫০ বছরের সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে
ডাচ মন্ত্রী বলেন—
“৫০ বছর ধরে নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগী ছিল। এখন আমরা সম্পর্ককে সমতা ও অংশীদারত্বে উন্নীত করতে চাই—রাজনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে।”
কৃষি–প্রযুক্তি–যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়বে
বৈঠকে আলোচনা হয়—
- কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি সহযোগিতা
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
- প্রযুক্তি উদ্ভাবন
- যুব দক্ষতা উন্নয়ন
- নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সামাজিক ব্যবসা তহবিল
উভয়পক্ষই এসব খাতকে ভবিষ্যত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে।
