বাংলাদেশের বহুল আলোচিত গুলশান বাড়ি দখল ও প্রতারণা মামলা আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রিভিউ আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছে। এর ফলে মামলাটি পুনরায় আপিল বিভাগে শুনানি হবে।
আপিল বিভাগের আদেশ
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির বেঞ্চ রিভিউ পিটিশনের শুনানি শেষে রিভিউ মঞ্জুর করেন। মামলা:
‘এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড বনাম মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার ও অন্যান্য’
এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন—
“এই আদেশের ফলে আপিল বিভাগের পূর্বের রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানি হবে।”
অ্যাটর্নি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্য
রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা এম আসাদুজ্জামান বলেন—
“দেশে দু’জন দরবেশ আছে—একজন সাদা, একজন কালো। কালো দরবেশ হচ্ছে নজরুল ইসলাম মজুমদার। দুইজনই এখন কারাগারে।”
তিনি আরও জানান,
“দুর্নীতির মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় তারা অলিগার্কে পরিণত হয়েছেন।”
ফিদা এম কামালের অভিযোগ
সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল বেঞ্চে জানান—
- তাকে না জানিয়ে
- অস্ত্রের মুখে
- এবং বাদীকে গুম করে
মামলা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
এ অভিযোগকে সমর্থন করে আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন—
“এই অভিযোগই যথেষ্ট। বাদীকে আয়নায় নিয়ে অস্ত্রের মুখে মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।”
মামলার অভিযোগ: জালিয়াতি, জবরদস্তি ও গুম
অভিযোগকারী আনোয়ারুল কবির খান জানান—
- তার বাবার নেওয়া ঋণের বিপরীতে গুলশানের বাড়িটি বন্ধক ছিল
- ব্যাংকের কর্মকর্তা ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের যোগসাজশে ভুয়া সমঝোতা দলিল তৈরি করা হয়
- বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জাল স্বাক্ষর দেখানো হয়
- তিনি অভিযোগ করেন, মামলা বন্ধ করতে তাকে
- হুমকি দেওয়া হয়
- তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের চেম্বারে নেওয়া হয়
- অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়
- মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করানো হয়
- পরে বলা হয় বিদেশে যেতে হলে “অনুমতি” লাগবে
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অভিযোগ
আনোয়ারুল কবির জানান—
নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগীরা তাঁকে নিখোঁজ করার চেষ্টা করেছিল এবং নানা উপায়ে মামলা প্রত্যাহার করাতে বাধ্য করেছিল।
