চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার
দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিরা—
- বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম
- বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
- বিচারপতি মো. রেজাউল হক
- বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক
- বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান
- বিচারপতি ফারাহ মাহবুব
রায়ে বলা হয়েছে—
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
- চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে
২০১১ সালের বাতিল রায়ের পুনর্বিবেচনায় এলো পুরো ভিন্ন ফল
২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করেছিল।
- ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর
- চলতি বছরের ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন গ্রহণ করে
- এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার ও পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক আপিল করেন
২২ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত একাধিক দিনের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা হয়।
কে কোন পক্ষ থেকে লড়লেন
- বিএনপি মহাসচিবের পক্ষে শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
- জামায়াতের পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির
- পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া
- রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান
তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনই সম্ভব নয়—আইনজীবী শিশির মনির
জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন—
“ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব নয়; কারণ এখন কোনো সংসদ নেই। তবে আমরা আশা করছি চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে।”
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পটভূমি—১৯৯৬ থেকে শুরু
- ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার রাজনৈতিক চাপের মুখে ত্রয়োদশ সংশোধনী আনে
- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন হয়—
- সপ্তম (১৯৯৬)
- অষ্টম (২০০১)
- নবম (২০০৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচন
২০০৪ সালের হাইকোর্ট রায়—তত্ত্বাবধায়ক বৈধ
২০০৪ সালে দায়ের করা রিটে হাইকোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সংবিধানসম্মত ঘোষণা করে।
পরে রিট আবেদনকারীরা আপিল করেন।
২০১০ সালে শুনানি চলাকালে অধিকাংশ সংবিধান বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির পক্ষে মত দেন—
এমনকি সে সময়ের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও পক্ষে ছিলেন।
২০১১ সালে বাতিল—খায়রুল হকের বিতর্কিত রায়
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১১ সালের ১০ মে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন।
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মত—এ পদ্ধতি অগণতান্ত্রিক
- সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক
পরে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়
- “দশম ও একাদশ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হতে পারে” পর্যবেক্ষণটি বাদ দেওয়া হয়
- এরপর দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচন হয়
- যা ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রায় পুনর্বিবেচনা
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলে—
আজকের রায়ে অবশেষে পুনর্বহাল হলো ত্রয়োদশ সংশোধনী
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন গ্রহণ করা হয়
