কাজলা এলাকায় ক্যানটিনে ঢুকে হামলাকারীদের তাণ্ডব
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন কাজলা এলাকার একটি ক্যানটিন থেকে রামদা ঠেকিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মারধর করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ঘটে এ ঘটনা। একই হামলায় নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা—
- ফারাবী, ফাইনান্স বিভাগ (২০২১–২২)
- বকশী, ফাইনান্স বিভাগ (২০২৩–২৪)
- মিনহাজ, নাট্যকলা বিভাগ (২০২৩–২৪)
১০–১২ জন অস্ত্রধারী ক্যানটিনে ঢুকে কুপিয়ে আটক করে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—
রাত ১১টার দিকে ১০–১২ জন দুর্বৃত্ত হেলমেট ও মাস্ক পরে ক্যানটিনে ঢুকে ফারাবী ও বকশীর ওপর হামলা চালায়।
তাদের হাতে ছিল—
- রামদা
- হাতুরি
- পিস্তল
হামলাকারীরা রামদা ঠেকিয়ে দুইজনকে জোর করে ক্যানটিন থেকে তুলে নিয়ে যায়।
এই সময় খাবার নিতে আসা মিনহাজকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা মিনহাজকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠান। পরে মণ্ডলের মোড় এলাকা থেকে আহত ফারাবী ও হবিবুর হলের সামনে থেকে বকশীকে উদ্ধার করা হয়।
অপহৃত বকশীর বর্ণনা: ‘বলল আসলটা পেয়ে গেছি, ওকে ছেড়ে দে’
বকশী জানান—
“কমপক্ষে ১০টা মোটরসাইকেল ছিল। সবাই হেলমেট পরা। আমাকে বাইকে তুলতে চাইছিল। পরে রিকশায় তোলে অক্ট্রয় মোড়ের দিকে নিয়ে যায়। অন্ধকার জায়গায় বসিয়ে রাখে। এরপর ফোন পেয়ে বলে, ‘আসলটা পেয়ে গেছি, ওকে ছেড়ে দে।’ এরপর ৩০ মিনিট ঘুরিয়ে ছেড়ে দেয়।”
তিনি হামলাকারীদের কাউকেই চিনতে পারেননি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ
দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা—
- কাজলা গেটের সামনে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে
- কাঠের গুঁড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের বক্তব্য
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন—
“সবাই হেলমেট পরা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে জানানো হয়।”
মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন—
“দুজন আহত হয়েছে। জনি নামে একজনের নাম পাওয়া গেছে। কারা এবং কেন হামলা করেছে তা তদন্ত চলছে।”
