বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চলতি নভেম্বরে মাত্র দু’সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জনের মৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারা দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার পটুয়াখালীর এক অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন—
“মানুষ এখন বাঁচতে চায়, দুই বেলার খাবারের নিশ্চয়তা চায়। কিন্তু সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। কৃষকেরা মাঠে মরছে, আর নিম্ন আয়ের মানুষ চাল–আলু দুটোই কিনতে পারছে না।”
তার দাবি, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস মানুষের জীবন–জীবিকার দায় না নিয়ে শেখ হাসিনার মতো বিদেশিদের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে ব্যস্ত আছেন, যা দেশবাসী মেনে নিতে পারছে না।
“ডেঙ্গুতে ৫৩ জন মারা গেছে — সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে?”
রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন—
“সারা দেশে ভয়াবহ ডেঙ্গু–চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ মরছে, হাসপাতালে জায়গা নেই। কিন্তু সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? এসব না দেখে শেখ হাসিনার মতো আবার গোপনে চুক্তি করছেন ড. ইউনূস!”
তার দাবি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি, কিন্তু সরকার সেই জায়গায় দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ।
বাজার–মূল্য, কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষের হতাশা—রিজভীর ক্ষোভ
তিনি আরও বলেন—
“বাজারে আগুন লেগেছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নেই। কৃষকেরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না। এই অবস্থায় সরকার জনগণকে বাঁচানোর মতো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
রুহুল কবির রিজভীর মতে, মানুষের দৈনন্দিন জীবন বাঁচানোই সরকারের প্রথম দায়িত্ব, গোপন চুক্তি করা নয়।
“শেখ হাসিনার মতো গোপনে চুক্তি করছেন ইউনূস” — রিজভীর অভিযোগ
রিজভী অভিযোগ করেন—
- শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিদেশিদের সঙ্গে বহু গোপন চুক্তি করেছিলেন
- এখন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানও একই পথে হাঁটছেন
- দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি হচ্ছে
তিনি প্রশ্ন করেন:
“চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া হয়েছে—এটা নিয়ে কেন কিছু বলা হচ্ছে না? শর্তগুলো কী, দেশবাসী জানবে না?”
তার মতে, সমুদ্রবন্দর বা নদীবন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে গেলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে।
“অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা”
বিএনপির এই নেতা প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন—
“আপনাকে যে কারণে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে তা হলো সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। গোপন চুক্তি নয়।”
তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ এখন প্রশ্ন করছে—
- কেন বাজার নিয়ন্ত্রণ নেই?
- কেন ডেঙ্গু ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
- কেন গোপন চুক্তির আলোচনা ছড়াচ্ছে?
রিজভীর মতে, এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।
গরিব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পটুয়াখালী সফর
বিএনপি নেতারা জানান, পটুয়াখালীর এক অসচ্ছল দম্পতি—
আবদুল গনি জমাদ্দার (৭০) ও মমতাজ বেগম (৫০) অনাহারে–অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তারেক রহমান বিষয়টি অবহিত হন এবং রিজভীকে সরাসরি সেখানে পাঠান।
সেখানে গিয়ে রিজভী আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং স্থানীয় নেতাদের নিয়ে পরিবারটির খোঁজখবর নেন।
সঙ্গে ছিলেন—
- আতিকুর রহমান (আমরা বিএনপি পরিবার)
- জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার
- সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা
“স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন সুযোগ এসেছে” — রিজভী
তিনি বলেন—
“অতীতের ভুলগুলো সংশোধন করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন সুযোগ এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তার দাবি, জনগণ পরিবর্তন দেখতে চায়—স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে।
