নতুন নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথমবার ইসির সংলাপে এনসিপি
নিবন্ধন পাওয়ার এক দিন পরই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে প্রথম সংলাপে অংশ নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে তারা ইসির আচরণবিধি প্রয়োগ করার সক্ষমতা নিয়ে স্পষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করে।
এনসিপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন—
- মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
- জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা,
- যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।
তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার হলে ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে কি না—প্রশ্ন এনসিপির
আচরণবিধির ৭ ধারার ‘চ’ উপধারা ইসির প্রথম পরীক্ষা হবে জানিয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন—
“বিএনপির বর্তমান প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। সে ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী যদি তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করেন, কমিশন কি সত্যিই ব্যবস্থা নিতে পারবে? তখনই ইসির সক্ষমতা বোঝা যাবে।”
আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থী শুধু দলের বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।
আচরণবিধিকে নির্বাচনী সংস্কৃতি বিরোধী বলছে এনসিপি
এনসিপি বলছে, আচরণবিধি দেশের নির্বাচনী উৎসবের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জহিরুল বলেন—
- চটের ব্যানার ব্যবহারের নির্দেশ বাস্তবসম্মত নয়
- প্রত্যন্ত এলাকায় চট প্রিন্ট করার সক্ষমতা নেই
- আচরণবিধি নির্বাচনী ঐতিহ্যকে অস্বীকার করছে
এ ছাড়া সাউন্ডবক্সের সর্বোচ্চ শব্দসীমা ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি—
“এ শব্দ পরিমাপ করবে কারা? কার কাছে যন্ত্র আছে? অভিযোগ কোথায় জানাতে হবে—তা স্পষ্ট নয়।”
সহিংসতায় জড়িত হলে প্রার্থিতা বাতিলের দাবি
রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে নির্বাচনের বড় সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে জহিরুল আরও বলেন—
“কোনো প্রার্থীর দলের অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় কেউ নিহত হলে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখতে হবে।”
টেলিভিশন সংলাপ ও এক মঞ্চে ইশতেহার পাঠকে বাধ্যতামূলক করার দাবি
আচরণবিধিতে যেসব ধারায়—
- সব প্রার্থীকে একই মঞ্চে ইশতেহার পাঠ
- টিভি সংলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ
এই ধারাগুলোকে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।
তদন্ত কমিটির সংজ্ঞা নেই—এনসিপির আরেক আপত্তি
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে দিতে বলা হলেও আইনেই তদন্ত কমিটির কোনো সংজ্ঞা দেওয়া নেই। তাই প্রক্রিয়াটি জটিলতার সুযোগ তৈরি করে—মন্তব্য জহিরুলের।
তিনি আরও বলেন—
“বিধিমালা লঙ্ঘনের পর যদি কোনো কর্মকর্তা ব্যবস্থা না নেন, তাঁর বিরুদ্ধে করণীয় কী—তা স্পষ্ট নয়।”
কাঠামোগতভাবে বড় দলগুলোকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে—এনসিপির অভিযোগ
এনসিপি মনে করে বর্তমান আচরণবিধি কাঠামোগতভাবে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিচ্ছে। নতুন দলগুলোর জন্য এতে অসুবিধা তৈরি হবে।
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট—নীতিমালা কবে? প্রশ্ন এনসিপির
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের ঘোষণা আসলেও নীতিমালা কবে আসবে, সেটি জানতে চান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি ইসিকে উদ্দেশ করে বলেন—
“ইসি যদি সংবিধানমাফিক নিরপেক্ষ থাকে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি নয়, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে—আমরা শতভাগ সহযোগিতা করব।”
জোটে প্রার্থী নিজের প্রতীকেই নির্বাচন করবে—এ সিদ্ধান্তে সমর্থন এনসিপির
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধন অনুযায়ী জোটভুক্ত দল নিজ দলের প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে পারবে—এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এনসিপি কমিশনকে এতে অটল থাকার আহ্বান জানায়।
