ইমরানের স্বপ্ন ছিল ইতালি যাওয়ার, শেষ হলো লিবিয়ার সাগরে
মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পরও ভালো চাকরি পাচ্ছিলেন না ইমরান খান (২৫)। উন্নত জীবনের আশায় স্বপ্ন দেখেছিলেন ইতালিতে যাওয়ার। কিন্তু অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রার সেই স্বপ্ন শেষ হলো লিবিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের গুলিতে।
পরিবারের দাবি—দালাল চক্রের প্রতারণায় ১ নভেম্বর রাতেই সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় ইমরানকে। গতকাল মঙ্গলবার দালালদের কাছ থেকেই পরিবার ওই মৃত্যুসংবাদ পায়।
হাউমাউ করে কান্না বাবার: ‘ছেলের মুখটা দেহাইতে দিল না’
আজ বুধবার সকালে ইমরানের বাড়িতে গেলে দেখা যায় শোকের মাতম।
৮০ বছরের বাবা তৈয়ব আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন—
“ছেলের মুখটা দালাল আমাগো দেহায় নাই। খালি বলছে, মারা গেছে…।”
মা রেহেনা বেগম রাতভর আহাজারি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বড় ভাই কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ায় ইমরান ছিলেন পরিবারটির একমাত্র ভরসা।
বোন ফাতেমা বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন—
“দুই ভাই-ই মইরা গেল। বাবার সব জমি বিক্রি করে ২২ লাখ, পরে আর ২০ লাখ—মোট ৪২ লাখ দিছি। তবুও ভাইডারে ভালোভাবে নিতে পারল না। পথেই মাইরা ফেলছে।”
স্থানীয়রা বলছেন—এক বছরে ৫০ জনকে অবৈধভাবে পাঠিয়েছে দালাল শিপন
স্থানীয়দের অভিযোগ—
- দালাল শিপন খান লিবিয়াপ্রবাসী
- তার মাধ্যমে ইতালির নামে প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক
- শুধু আদিত্যপুর এলাকা থেকেই এক বছরে ৫০ জনের বেশি যুবককে পথে নামিয়েছে
- তার ভাই সেলিম খান সব কাজে সরাসরি যুক্ত
ইমরানের মৃত্যুর পর শিপন ও সেলিম বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিবিয়ায় বন্দিশালা
পরিবার জানায়—
- ২২ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর চুক্তি
- ৮ অক্টোবর দেশ ছাড়ানোর পর ভারত → শ্রীলঙ্কা → মিসর হয়ে লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে যাওয়া
- সেখানকার বন্দিশালায় আটক রেখে আরও ২০ লাখ টাকা নেয় দালাল চক্র
- ১ নভেম্বর রাতে ইমরানকে নৌকায় তোলা হয়
- কিছুক্ষণের মধ্যে জলদস্যুদের গুলিতে মৃত্যু
পরিবারের দাবি,
“৪২ লাখ টাকা নিল, শেষে ভাইডারে সাগরে ফালাইয়া দিল।”
বন্ধুসভার সক্রিয় সদস্য ছিলেন ইমরান
ইমরান খান ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সক্রিয় সদস্য।
- মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন
- রেড ক্রিসেন্টসহ অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতেন
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন—
“এমন একজন মানবিক মানুষ এভাবে মারা যাবে, তা বিশ্বাস করা কঠিন।”
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন—
“অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
