জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অন্যতম আসামি থেকে রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
সকালেই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক প্যানেল।
মামলার দুই পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও কামাল
এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং সাক্ষ্য–প্রমাণে সেগুলোর শক্তিশালী ভিত্তি পাওয়া গেছে।
সকাল ১১টার পর রায় ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল–১
সোমবার বেলা ১১টার পর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার।
সদস্য হিসেবে রয়েছেন—
- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ
- বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী
২৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট–ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা
রায়কে ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন—
- পুলিশ
- র্যাব
- এপিবিএন
- বিজিবি
- সেনাবাহিনী
- বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা
রোববার সন্ধ্যার পর থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানি: ৫৪ জন সাক্ষী, ২৮ কার্যদিবস
মামলাটিতে বিস্তৃত তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
বিশদ তথ্য:
- ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য–জেরা
- ২৮ কার্যদিবস জুড়ে সাক্ষ্যগ্রহণ
- ৯ কার্যদিবস ধরে যুক্তিতর্ক
- মোট মামলা নথি: ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা
এ ছাড়া,
- দালিলিক প্রমাণ: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা
- তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা
- শহীদদের তালিকা: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা
তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় গত ১২ মে।
প্রসিকিউশনের দাবি: সর্বোচ্চ শাস্তি চাই শেখ হাসিনা ও কামালের
রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।
তাদের অভিযোগ—
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় উসকানি, পরিকল্পিত আক্রমণ, অস্ত্র ব্যবহার, হত্যাকাণ্ড এবং লাশ পোড়ানোর মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় প্রসিকিউশন তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের হাতে ছেড়ে দেয়।
তবে তার পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ সম্পূর্ণ খালাস প্রার্থনা করেছেন।
মামলার অভিযোগসমূহ
তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো—
- আন্দোলনে উসকানি তৈরি
- মারণাস্ত্র ব্যবহার
- আবু সাঈদ হত্যা
- চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড
- আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো
এই অভিযোগগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার গুরুত্ব: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়
মামলাটি শুধু একটি বিচারের বিষয় নয়—এটি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সামনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে—এ রায় দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলবে।
