ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘোষণা দিয়েছেন—যারা মানুষ, পুলিশ সদস্য বা যানবাহনের ওপর ককটেল নিক্ষেপ বা অগ্নিসংযোগ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে গুলি ছোড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় তিনি প্রথম আলোকে এ কথা নিশ্চিত করেন।
মানুষ ও পুলিশের ওপর হামলা প্রতিরোধে কড়া অবস্থান
ডিএমপি কমিশনার বলেন,
“যারা মানুষ বা পুলিশ সদস্যদের ওপর ককটেল হামলা করবে কিংবা যানবাহনে আগুন দেবে, আইন অনুযায়ী তাঁদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি জননিরাপত্তা রক্ষা, সরকারি স্থাপনা সুরক্ষা এবং চলমান নাশকতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থা।
এই সিদ্ধান্ত ‘ডিএমপি কমিশনারের গুলির নির্দেশ’ হিসেবে এখন চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা প্রতিহতেও গুলির নির্দেশ
ডিএমপির অপরাধ বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন—
বেতার বার্তায় কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন,
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য জায়গায় হামলা করতে এলে গুলির মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে।
তাদের ভাষায়,
“হামলাকারীরা প্রথমে আইন ভাঙছে ও আগুন দিচ্ছে—তাই মাঠপর্যায়ে কঠোর প্রতিরোধের নির্দেশ এসেছে।”
চট্টগ্রামেও এর আগে একই ধরনের নির্দেশনা
এর পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনারও বেতার বার্তায় কর্মকর্তাদের একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
আজ ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা যোগ হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে উঠেছে।
গণ–অভ্যুত্থান মামলার রায় ঘিরে উত্তেজনা
আগামীকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণা করা হবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে।
রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত সপ্তাহে ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের যেকোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীরা ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
এর পর থেকেই ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায়—
- বাসে আগুন
- ট্রেন কারেজে অগ্নিসংযোগ
- ককটেল বিস্ফোরণ
- পুলিশের ওপর হামলা
এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
ফলে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করছে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী।
টানা দুই দিন ঢাকায় বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন
শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়—
- ককটেল নিক্ষেপ
- গাড়িতে আগুন
- যানবাহনে হামলা
এসব ঘটনা ঘটে।
এ অবস্থায় পুলিশ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় এবং আওয়ামী লীগের অন্তত ১৮ জন নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রায় ঘোষণাকে ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অবস্থানও ততটাই দৃশ্যমান।
জননিরাপত্তায় কঠোর বার্তা: ডিএমপি কমিশনারের গুলির নির্দেশ
ডিএমপি কমিশনারের দেওয়া গুলির নির্দেশ সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এ নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে, কতটা মানবাধিকারসম্মত—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে পুলিশ বলছে—
“জীবন বাঁচানোই অগ্রাধিকার। হামলা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতেই হবে।”
