মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘোষণা করা হবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)। এ রায় ঘোষণার আগে স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (১৬ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি বলেন—
“আগামীকাল (১৭ নভেম্বর) বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যেখানে গতবছর ঢাকায় সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে। আমরা পূর্ণ ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা দাবি করছি।”
রায় পরবর্তী সম্ভাবনা: ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হবে
রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
তিনি জানান—
“আমরা ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছি। পাশাপাশি শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা শহীদ পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছি।”
তার দাবি, ভিক্টিম পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা জরুরি।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণের আবেদন
প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন—
“আমরা চাই, মামলার ভিক্টিম, শহীদ ও আহতদের পরিবার যেন ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও পায়। তাই আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা তাদের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন—
“ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে আদেশই দিক, প্রসিকিউশন সেটি মেনে নেবে।”
বিচারপ্যানেল ও রায় ঘোষণা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশিষ্ট বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
ট্রাইব্যুনালে গত কয়েক মাস ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষমান ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় দেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগসমূহ
শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো—
- ঢাকায় প্রাণঘাতী সহিংসতা
- দমন-পীড়নের ঘটনা
- মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা
- রাজনৈতিক দমননীতির অভিযোগ
- সংগঠিত সহিংসতায় নির্দেশনার অভিযোগ
ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, এসব অভিযোগের প্রতিটিই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে।
বিএনপির অবস্থান: স্বচ্ছ বিচার চাই
মির্জা ফখরুলের মতে, রায় যেন কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন—
“মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় এ দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা চাই, বিচারের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক।”
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, রায়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হোক—এটা তারা চায় না।
রায়ের প্রভাব: কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ?
বিশ্লেষকদের মতে, রায় যেদিকে যাক, তা দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে পারে।
- যদি দণ্ড হয় → ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে
- সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ আসতে পারে
- আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে
- দেশের রাজনৈতিক মাঠ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে
অন্যদিকে যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়—
- প্রসিকিউশন আপিল করতে পারে
- আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে পারে
সব মিলিয়ে, ১৭ নভেম্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।
