সংলাপে বিএনপির দাবি: রিটার্নিং কর্মকর্তা হোক ইসির কর্মকর্তা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা (আরও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের হাতে দিতে হবে।
৩০০ আসনে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সমস্যার মূল—বিএনপি
সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেন—
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি বোতাম—ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি। এগুলো টিপলেই ৩০০ আসনের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায়। এ ব্যবস্থার বাইরে যেতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, সরকারের অধীনে থাকা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয় না। তাই ইসিকেই শক্ত ভূমিকা নিয়ে নিজেদের জনবল দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।
ইসির জনবল দিয়েই সম্ভব নির্বাচন পরিচালনা—বিএনপি
সাধারণত জাতীয় নির্বাচনে—
- ৬৪ জেলার ডিসি রিটার্নিং কর্মকর্তা
- ঢাকা–চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আরও হিসেবে কাজ করেন
- ইউএনওরা হন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা
বিএনপির দাবি,
“ইসির যত জনবল আছে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করলে ৩০০ আসনে নিজেরাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
মঈন খান বলেন, ইসি যদি সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় “গুণগত পরিবর্তন” আসবে।
ইসিকে শক্ত থাকার আহ্বান
বিএনপি প্রতিনিধি দল ইসিকে জানায়—
- তারা নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে
- কিন্তু ইসিকে “সরকারের কাছে নতজানু” হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়
- রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তই নিরপেক্ষতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো
আজ দুপুরে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে পাঁচটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়—
- বিএনপি
- নাগরিক ঐক্য
- গণ অধিকার পরিষদ
- বাসদ (মার্কসবাদী)
- রিপাবলিকান পার্টি
এই সংলাপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির চলমান আলোচনার অংশ।
